তিন বান্ধবী মিলে

 



প্রতিদিনের মতো আজ  জন বান্ধবী , না বান্ধবী ঠিক নয় , সোসাইটিতে বসবাসকারি একটি মহিলা গ্রূপ সন্ধে বেলা তে সোসাইটি ভ্রমণে বেড়িয়েছেন ! যাদের এটা একটা প্রাত্যহিক অভ্যেস ! পুরো দুনিয়া এদিক ওদিক হয়ে গেলেও এনাদের এই সান্ধ্যকালীন ভ্রমণটা জীবনের এক অবিছ্যেদ্য অঙ্গ !

সুমিতা ; এই আজ আমাকে একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে ! আজ কিন্তু বেশি দেরি করলে হবে না আমার

অলি: কুল.. এতো তারা কিসের আজ?

নৈঋতা : হয়তো বাড়িতে শাশুড়ি তাড়াতাড়ি ফিরতে বলেছেন

যদিও এটা  সুমিতার  ক্ষেত্রে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয় ! তবু নৈঋতার আপাতত এই অন্ধকারে তীর চালানোটা ব্যর্থ গেলো !

সুমিতা : না, আজ আমার ছোট মেয়ের জন্মদিন ! সবই তৈরী আছে কিন্তু গিয়ে কেক কাটার প্রস্তুতি নিতে হবে

অলি : বাইরে থেকে কেক অর্ডার করলেই তো হয় , নিজে কষ্ট করে বানানোর কি দরকার?

যাজ্ঞসেনী : আসলে আমার শশুর শাশুড়ি বাইরের খাবার পছন্দ করেন না ! বাইরের খাবার ঢুকতেও দেন না বাড়িতে ! আর যখন আমি নিজেই বানাতে পারি তাহলে বাইরের খাবার বানানোর কি দরকার?

নৈঋতা : যাজ্ঞ তো রান্নাটা ভালোই করতে পারে আর ভালোবাসে , যাই হোক, যাজ্ঞ কাল কিন্তু কেক টা নিয়ে আসবি আমাদের জন্য !

সুমিতা  তোমাদের জন্য অবশ্যই নিয়ে আসবো, তোমাদের না দিয়ে খেতে পারি আমি?

এই বলে সুমিতা  বিদায় নিলো ! বাড়ি ঢুকে ঢুকেই শাশুড়ি মিনী দেবীর মুখ ঝামটা খেতে হলো !

মিনী দেবী : আজকের দিনে বাইরে না গেলে কোন মহাভারত অশুদ্ধ হতো? এতো দেরি করে ফিরলে বৌমা ! যায় তাড়াতাড়ি সব রেডি করো !

সুনিতার কাছে এটার উত্তর ছিল, কিন্তু উত্তর না দেওয়া তাই শ্রেয় , নাহলে বরের কাছেও গঞ্জনা শুনতে হবে রাতে ! সব কিছু তৈরী ! সুমিতার বড়ো মেয়ে প্রিয়ম্বদা বয়স ৭ বছর , ছোট করে প্রিয়া বলে উঠলো, মা সাগর চাচুকে একবার ফোন করবে? তাড়াতাড়ি ডাক চাচু কে ! অনুসূয়া , সুমিতার ছোট মেয়ে , যার বয়স ৪ বছর, বলে উঠলো, সাগর চাচুকে ছাড়া কেক কাটবো না আমি ! ছোট মেয়ের জেদ দেখে সুমিতার মেজাজ সপ্তমে চড়ে গেলো, কিন্তু শশুর শাশুড়ির সামনে কিছুই বলতে পারলো না ! প্রিয়াকে বললো, ফোন কর তোর সাগর চাচুকে !


এই সাগর হলো মিনী দেবীর কনিষ্ঠ পুত্র , মানে যাজ্ঞসেনীর একমাত্র দেবর ! সৌদামিনী দেবীর নয়নের মনি ! সুমিডার বর অমিতেশের দু চোখের বিষ ! কেন জানি না নিজের ছোট ভাইকে একদম সহ্য করতে পারে না অমিতেশ ! হতে পারে অমিতেশ প্রথমে সংসারের একচ্ছত্রাধিপতি ছিল, কিন্তু ভাই সাগর আসার পর অমিতেশের সব কিছুতেই ভাগ বসিয়েছে ! মায়ের দুধ থেকে শুরু , তারপর আদর, আবদার, বায়না, খেলনা, পড়াশোনা, খেলাধুলা সবকিছুই ! বাড়ির ছোট ছেলেরা একটু বেশি তীক্ষ্ণ ও বুদ্ধিমান হয় ! সাগর সব কিছু বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকে তাই নিজেই দাদার কেনা ফ্লাট ছেড়ে নিচের তলাতেই ষ্টুডিও এপার্টমেন্টে নিজের অবিবাহিত জীবনযাপন করে ! আজ অমিতেশের কাছে এটাও এক ধরণের পরাজয় যে অমিতেশের মেয়েরা আজ অমিতেশের খোঁজ না করে সাগর চাচুর খোঁজ করছে !


সাগর বাড়িতে ঢুকতেই ছোট্ট অনু দৌড়ে চাচুকে জড়িয়ে ধরলো, আর সাগর হাটু মুড়ে মাটিতে বসে অনুকে বুকে জড়িয়ে ধরলো ! সাগর নিজের দাদার খোঁজ করলো, বৌদি যাজ্ঞসেনী জানালো যে জরুরি কোনো একটা কাজে আটকে গেছে অমিতেশ তাই আসতে দেরি হবে ! যদিও সাগর জানে এটা কোনো নতুন ব্যাপার নয় ! প্রতিদিনই অমিতেশ রাত ৯ টায় বাড়িতে ঢোকে ! কেক কাটা হলো , আজ অমিতেশ নিজের মেয়ের জন্মদিন ভুলে গেলেও সাগর ভোলেনি আর ভাইঝির জন্মদিন ! সে আসার সময় অনুর জন্য সুন্দর একটা ছবি অনেকের বই নিয়ে এসেছে ! অনুর কেক কাটার থেকেও বেশি আকর্ষণ ছিল চাচুর দেওয়া উপহারটা নিয়ে বসার ! কেক কাটার পর সাগর তার মা বাবার সাথে গল্প করছে ! সুমিতা  নিজের মেয়েদের নিয়ে ব্যস্ত , আর মাঝে মাঝে উনানে চাপানো রাইতার দিকে খেয়াল রাখছে ! সুমিতা  একটা ট্রে তে করে এক টুকরো কেক নিয়ে এলো নিজের দেবর সাগরের জন্য ! সাগর বৌদিকে নিজের ভাগ থেকে একটু কেক ভেঙে দিলো, সাগর সবই লক্ষ্য করেছে, কেক এর ভাগ সবার জন্য হয়েছে, দাদার জন্য কেকটা আলাদা করে রান্না ঘরে ঢাকা আছে, আর বাকি কেক টিফিন বক্সে ! সাগরের বাড়ানো কেক সুমিতা নিজের হাতে নিয়ে খুব সুন্দর মন থেকে একটা মিষ্টি হাসি হাসলো ! দেবর বৌদি তখন গল্প শ�


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ